উচ্ছেদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইট বিক্রি বন্ধের ঘোষণা মালিকদের


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৪:১০ পিএম, ২০২১-০২-২৭

উচ্ছেদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইট বিক্রি বন্ধের ঘোষণা মালিকদের

নকিব ছিদ্দিকী:চট্টগ্রাম জেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক , কর্মাকর্তা কার্মচারী ,শ্রমিক ও এ শিল্পের আওতাভুক্ত  বিশাল জনগোষ্ঠীকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখহাসিনার হস্তক্ষেপ কামনায় সংবাদ সম্মেলনের অয়োজন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা ইটভাটা মালিক সমিতি।

অনির্দিষ্টকালের জন্য ইট বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম জেলা ইটভাটা মালিক সমিতি।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার দুপুর ১২টায় এই ঘোষণা দেন জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির আহ্বায়ক ও ফটিকছড়ি পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব ইসমাইল হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ৫০০ ইটভাটা রয়েছে। এ সব ভাটায় প্রায় ৬ লাখ শ্রমিক কাজ করে। কিন্তু কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই এসব ইটভাটা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই খাতে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এসময় ইটভাটা মালিকগন ব্যাবসা পরিচালনার জন্য সরকারের কাছে তিন মাসের সময় চায়। যাতে চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে ।

তিনি আরও বলেন, ‘ইটভাটা বন্ধের ঘোষণার প্রতিবাদে আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ইট বিক্রি বন্ধ রাখব।’ প্রতিবাদ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রেরণ ও ১ মার্চ চট্টগ্রাম জেলার ইটভাটা শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে মানববন্ধন হবে বলে জানিয়েছেন ইসমাইল।

তিনি আরো জানান, প্রত্যেক উপজেলায় মানবন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করা হবে ।

এছাড়াও তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এবং ২০১৬ সালের সংশোধিত খসড়া আইন মেনে বৈধ লাইসেন্স এর মাধ্যমে ইটভাটার ব্যবসা চলছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সর্বোচ্চ ১২০ ফুট উচ্চতার চিমনি, জিগজাগ ভাটা স্থাপন, জ্বালানি কাঠের পরিবর্তে কয়লার ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। চট্টগ্রামের ইটভাটা থেকে বছরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় হচ্ছে সরকারের।  

ইসমাইল হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে ৫০০ ইটভাটা রয়েছে। প্রতিটি ইটভাটায় দৈনিক ৭০০-৮০০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তাদের মজুরি কাজ শুরুর আগেই পরিশোধ করতে হয়। পাশাপাশি এই ব্যবসার সঙ্গে ট্রাক-জিপ ও নসিমন গাড়ি চালক, বালু ব্যবসায়ী, রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী, হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী, রাজমিস্ত্রি, রং মিস্ত্রি, ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবসা, পাইপ ফিটার ব্যবসা ও কাঠ ব্যবসাসহ সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায় চরম সংকট তৈরি হবে। চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা ও মহানগরে চলমান সরকারি উন্নয়নকাজে প্রায় ৫০ কোটির বেশি ১ নম্বর ইট এবং গড়ে প্রতি উপজেলায় ২ কোটির বেশি ইট প্রয়োজন হয়। ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেলে সরকারের সব মেগা প্রকল্পের কাজে জটিলতা সৃষ্টি হবে।

যেহেতু অদ্যাবধি ইটের বিকল্প কোনও পদ্ধতি সৃষ্টি হয়নি, সেহেতু ইটভাটা বন্ধ না করে চালু রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন চট্টগ্রাম জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে ইটভাটা খুলে দেওয়ার দাবিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রেরণ এবং ১ মার্চ চট্টগ্রামের ইটভাটা শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এসময় কেন্দ্রীয় ব্রিকস মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মৌলভী আব্দুল মালেক, শহিদ উল্লাহ রনি, আজিজুল হক কোম্পনী (রাউজান)  সৈয়দ কোম্পানী, সুমন দে, শাহেদ উল্লাহ জনি, ইকবাল হোসেন, হাজী জহির আহম্মদ, আনোয়ার কোম্পানী, ফরিদুল আলম, আবিদ হোসাইন, জয়নাল আবেদিন, আব্দুর রহিম বাদশা ,  সাইফুদ্দিন খোকন জহির আহম্মদ প্রমূখ।